May 04, 2023 - May 06, 2023
OK, LET’S BE REAL!
মানুষ ঘুড়তে যায় কেন? আত্মা, চোখ, শারিরীক রিলিফ, আর মানুষিক শান্তি পাওয়ার জন্য।
আর আমি/আমরা (আমার টিম) জানেন কেনো ঘুড়তে যাই? যেনো একজন আরেকজনকে ঠিক মত গালাগাল, ইজ্জত নিয়া ছিনিমিনি খেলা, মারামারি, পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেল করার জন্য খালি গায়ে ছবি তোলা, সব রকমের পোন্দাপুন্দি ও ইত্যাদি টাইপের কাজ করতে পারি। এক কথায়, টুরিস্ট ডেস্টিনেশানে গিয়ে যত মজা হয় আমরা নিজেরাই এরচেয়ে বেশি মজা করি।
শান্তি পাওয়ার জন্য ট্যুরে গিয়ে বাড়ি এসে সেই অশান্তিতো ভুগা লাগে যে, “কোন হালায় জানি আমার কাপড় ছাড়া ছবি তুলে রাখছে”।
আমি মনে করি এই ট্যুরে যা যা হয়েছে তা প্রতিটা ছেলের জীবনে একবার হলেও হওয়া উচিত। কারন, এখানে এমন কিছু বাদ নেই যা হয়নি।
প্ল্যানঃ- দূর মিয়া, এটা কি নেটফ্লিক্স এর মানি হাইস্ট নাকি যে প্ল্যান বানামু? এই ট্যুরের কোনো প্ল্যান ছিলো না।
আইলসা পুলাপান নিয়া কিয়ের আবার প্ল্যান? I had a whole day date with my girl. We went to so many places. so I was sooooo fuckking tired and বাড়িতে এসে ফ্যানের নিচে নাহিদ ভাইয়ের ফোন “কিরে বেডা গাট্টিগুট্টি গোছা রাতের গাড়িতে চিটাগাং যামু। সবাই রেডি।” শেষ! রেডি আর আইলসার দলবল নিয়া ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন।
আমি আর এনামুল। এবার ই প্রথম আমি আর ও একসাথে কোথাও ঘুড়তে যাচ্ছি
আমি একা
আমার সাথে জোবায়েদ
আমরা সবাই ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে। কাউছার নামে ছেলেটা ছবি তুলতেছে
যার্নি আর আমরাঃ - এবার ট্রেনের কেবিনে উঠে জানালার পাশে কে বসবে সেটা নিয়ে মারামারি হয় নাই।
এর পরে আসে নাহিদ মিয়াঃ- আমাদের টিম লিডার (এক কিছুর চাপ নিতে কত ভাল্লাগে তোমার?) আর চাকিপ কানের চরম ভক্ত ! এই বেটায় তো ৯ ঘন্টায় ঠিক’ই করতে পারে নাই কই কই ঘুড়তে যাইবো
। পরে এসব বাদ দিয়ে কেবিনে চিল করা শুরু করছে।
রিদয়ঃ - কো-লিডার। সময় মত খানা পাইলে সব কিছুর চাপ না থাকলে মাথা ঠিক নাইলে কি করবো নিজেও বুঝে না। 
এনামঃ এই হালায় হইলো কিছুটা সে ছেলের মত যার সামনে প্রচুর মেয়ে কিন্তু তার কোনো কিছু করার ইচ্ছা হয় না।
যেমনে নিই সেভাবেই। চুপ থাইকা খালি সবার কর্ম কান্ড নোটিস করে। পারলে ভিডিও করে।
রিয়াদ আর রিদয় (অন্যে এলাকার) (তোরা জমজ ভাইরে আমি চিনিনা) টাইম মত পিনিক হইলে সব শান্তি। এদের আর কোনো ইচ্ছা নাই।
জুবায়েদঃ- হে কার ভাইগনা আর ছোট ভাই হে নিজেই জানে না। পথহারা পাগলের মত কিছুটা।
কি করবে নিজেও জানে না।
ভালো মুড instantly খারাপ করার Ph.D ডিগ্রি আছে জুবায়েদ আর পিচ্ছি রাকিবের কাছে। 
বায়েজিদ, আর বড় রাকিবঃ- এদের জীবনে কোনো চিল নাই। খালি হাসবো আর দেখবো। এরা মনে মনে কি চিন্তা করে আল্লাহ ভালো জানেন। 
Arrived at Sitakunda:- মারা খাওয়া শুরু
Now it’s time to সমুদ্র পাড়ি দেয়া
ভাইরে ভাই! জাহাজে করে সমুদ্র পাড়ি! সেই নীল দড়িয়া গানের সুর মনে এসে গেলো। কিন্তু, কথা হলো, জাহাজ ছেড়ে দেবে মাত্র 10 মিনিটে আর রাস্তা দেখে মনে হচ্ছে আমরা হাটলে কমপক্ষে ২০ মিনিট লাগবেই
। দিলাম দৌড় সেই ব্রিজ দিয়ে যেখানে রিসেন্ট বাংলা নাটক “বিদেশ”-এ পারিসা ইভানা সুইসাইড করার জন্য দৌড় দিয়েছিলো। সত্যি বলতে দৌাড়ানোর সময় নিজেকে TV ads এর ক্যারেক্টর মনে হচ্ছিলো
। বাট, মজা হইসে অনেক। লাইফে এমন Experience এর দরকার ছিলো। কোনো রকম গিয়ে জাহাজে উঠলাম আর শান্তি, হাফ ছাড়লাম! ঘোড়ার ডিম
শান্তি বলতে আসছে, রোদের জন্য ভালোমত দাড়িয়ে একটা ছবিও তোলা যাচ্ছিলো না আর মানুষের গ্যাচগ্যাচ আছেই। অবশেষে ২ ঘন্টার জাহাজ যার্নি করে সন্দ্বীপে পৌছালাম। পৌছানোর পরে যা যা দেখছি তাতেই চোখে শান্তি লাগছে! ওয়েলকামে ছিলো বিশাল বড় এক ম্যানগ্রোভ! যেখানে গেলে জাঙ্গিয়া ছাড়া আর কিছুই সাথে আনা যাবে না।
এর পরে হোটেলে গিয়ে
কিছুটা বিশ্রাম টাইম।
স্বন্দিপের জাহাজে ওঠার সময়!
জাহাজে ওঠার আর মাত্র কয়েক মিনিট বাকি আছে। তারাতাড়ি না গেলে জাহাজ ছেড়ে দেবে। তাই দৌড়ানো লাগতেছে।
জাহাজ থেকে সমুদ্র
সন্দ্বীপের সবকিছুঃ- প্রথম কথা হলো, এই দ্বীপের মানুষ খুবই ফ্রেন্ডলি। তারা অনেক সুন্দর ভাবে মানুষের সাথে কথা বলে। আমরা সেখানে প্রথমে বিকেল বেলা বিচে যাই। বিচে কক্স-বাজারের মত মানুষ, বাদাম ওয়ালা, দোস্ত তোর লুঙ্গি খুলে যাইতাছে, এ মনু মোর একখানা ছবি তোল, ভাই 5 টা ছবি 10 টাকা, আমার 90 টা ছবির একটাও ভালো মত তুলতে পারলিনা বলা কোনো কুল আপু, ঝাল মুড়ির প্যাকেট, 20 টাকা চাওয়া হিজরা, আর বাবা বিক্রেতা নেই। তাই পরিবেশ এবং চারপাশ অনেক বেশি সুন্দর আর উপভোগময়। শান্তিতে বসে বড় বড় ঢেউ দেখতে পারবেন আর প্রচুর বাতাসের সাথে পানির মিষ্টি আওয়াজ শুনতে পারবেন।
বাতাসে চুল ঠিক থাকতে চায়না
বিচে ঘুড়তে এসে
রাতে ফ্রেশ হয়ে ডিনারে যাচ্ছি
রাতঃ-
এই রাত জীবনে স্বরনীয় হয়ে থাকবে।
হোটেল রুমে যা যা হয়েছে সেটা বলে বুঝাতে পারবো না। রাতের বেশি কিছু এখানে বলা যাবে না। বললে চাকরি থাকবে না
। তবে, জোবায়েদকে প্রচুর প্রচুর বিরক্ত করা হইছে প্ল্যান করে।
আমি মনে করি কয়েকজন বন্ধু মিলে এমন রাত লাইফে একবার হলেও একটা হোটেলে কাটানো উচিত।

২য় দিন।
যেহেতু সকাল ৭টায় জাহাজে উঠতে হবে তাই একদম ভোরে ঘুম থেকে উঠেছি। ঠিক ৪:২৯ মিনিটে। আর এই ভোরে সমুদ্রের উপরে ভাসা চাঁদ মামাকে দেখতে কত যে সুন্দর লাগছিলো তা বলে বুঝানো যাবে না। পূর্নিমার চাঁদ! জবাব নেই।
পরে সকাল ৭টার আগেই গিয়ে পৌছালাম সন্দ্বীপ সদরঘাটে। আর সেখান থেকে জাহাজে করে সীতাকুণ্ড সদরঘাট। এর পরে ভাবলাম একটা লেকে ঘুড়তে যাবো সেখান থেকে ফ্রেশ হয়ে সোজা চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে। কিন্তু পরে দেখলাম সময় মিলবে না। ট্রেন (মহানগর এক্সপ্রেস) পাওয়া যাবে না। চট্টগ্রাম থেকে সবচেয়ে কম সময়ে আর ভালো কোয়ালিটিতে ভৈরব যাওয়ার একমাত্র ট্রেন এটাই। ট্রেন ছেড়ে দিলো! আর এই ট্রেনে যা হলো!
আমরা উঠেছি ২য় শ্রেনির কোচে। এখানে সব থাকে ভদ্র সমাজের মানুষ। বলদামো করা নোয়াখাইল্লা আর বরিশাইল্লা এখানে ভুলেও উঠে না। তারা উঠে ৪র্থ শ্রেনির কোচে তাই আমরা সেসব কোচে যাইনি। আর আমরা ভাগ্য করে ১০ জনের সীট একসাথে পেয়ে গেছি৷
আমরা ১০ জন এক হয়েছি আর এখানে পরিবেশ ঠান্ডা থাকবে কিভাবে?
কে হা করে ঘুমালো কে কার এভনরমাল ফটো নেবে আর কে কাকে খোচা দেবে! বিশেষ করে 'মেয়েদের সামনে কতটা কুল হওয়া যায় সেটা তো আমি আর এনামুল ছাড়া বাকি ৮জন ভালো মতই করেছে'। আমি ভাই ভালো মানুষ আমি এসব করি না
। ২ ঘন্টা বসার পরে আর ভাল্লাগে না। সবাই সীট রেখে উঠে গাড়িতেই ফ্রী ভাবে আড্ডা দেয়া শুরু করলাম সবার সামনে। গত ২ দিনে ট্যুরে যা হইছে সব বলা শুরু করলাম। সব কিছু নিয়ে প্রচুর মজা নিচ্ছিলাম সবাই
। আর পুরো কোচের মানুষ দেখতেছে আমাদেরকে
। আমি শিওর তারা সেদিনের ট্রেন জার্নি তাদের জীবনে কোনোদিন ভুলবে না। কারন যা যা করছি তা বলে বুঝানোর মত না।
এই ট্রেন জার্নি আমার এবং আমার টিমের সবার জীবনের সেরা ট্রেন জার্নি হয়ে থাকবে।
অবশেষে জীবনের সবচেয়ে বড় ধামাকা
! ট্রেনের টিকিট হারিয়ে পুলিশের সাথে ঝামেলা
। কপাল যথেষ্ঠ ভালো থাকায় এবারে বেচে গেছি।
Finally, We are HOME

আমাদের জীবনে কত কিছুই হয়। দুঃখ-কষ্ট আর সুখ মিলিয়ে আমাদের জীবন পরিপূর্ন হয়।
কখনো ONE DAY লিখে ফেসবুকে পোস্ট মেরে ঘরে বসে থাকা উচিত না। যখন যা করতে মন চায় তা করুন। জীবনকে উপভোগ করুন। নিজেকে চিনুন আর এত সুন্দর পৃথীবি আল্লাহ বানিয়ে রাখছে সেটাকে চিনুন। দূরে যেতে না পারলে খেয়াল করে দেখবেন আপনার জেলাতেই অনেক সুন্দর জায়গা আছে যেখানে আপনি যাননি। জীবনের প্রতিটা জিনিসে নতুন নতুন এডভেঞ্চার খুজে বের করুন। মনে কষ্ট নিয়ে বসে থাকলে কিছুই হবে না। সত্যি কথা এটাই যে আমরা দিনে ৮ ঘন্টা ঘুমিয়ে কাটাই আর বাকিটা চিন্তা করে কাটাই। এসব করে জীবনে কোনো কিছু করা যায় না। জীবনের প্রতিটা মহূর্ত উপভোগ করতে হয়। ঘরের বাহিরে যেতে না পারলে ঘরে বসেই করুননা। মুভি দেখুন আর অন্যের অবিজ্ঞতার গল্প পড়ুন। দেখবেন কতটা ভালোলাগে। নিজের চিন্তা করার ধারা পরিবর্তন করুন। দুনিয়াটাকে চিনতে শিখুন। নিজেকে সময় দিন। নিজেকে সময় দেয়া অনেক জুরুরি। প্রতি ৬ মাসে পারলে বাড়ির 500 কিলোমিটার দূরে যান। বাহিরে গিয়ে দেখুন বাহিরের দুনিয়াটা কেমন। অনেক কিছু জানতে পারবেন শিখতে পারবেন। আপনার জন্য বাহিরে কতকিছু রাখা আছে তা আপনার কোনো ধারনা নেই। দিনশেষে এটাই বলবো, ঘুড়া ফেরা আর অবিজ্ঞতা জীবনে খারাপ আনে না। সব কিছুতে নিজেকে মানিয়ে নিতে শিখুন। বন্ধু না থাকলে একা ঘুড়তে যান। দেখবেন কতটা ভালো লাগে।
সবকিছু বলে বুঝানো পসিবল না।
নিজেকে সময়দিন,
এক্সপ্লোর করতে শিখুন,
সুন্দর জীবন উপভোগ করুন।
My name is Ripon and I live, I don't survive.


















































Comments
Post a Comment